বিশ্বব্যাপী তামার দাম দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে বাড়ার পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা সামনের দিনগুলোয় কমে আসতে পারে। এছাড়া এ সময় শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে তামার চাহিদা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা সামনের দিনগুলোয় কমে আসতে পারে। এছাড়া এ সময় শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে তামার চাহিদা স্থিতিশীল থাকতে পারে। এমন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে চলতি বছরের দ্বিতীয় (এপ্রিল-জুন) ও তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জন্য ধাতবপণ্যটির দামের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও রয়টার্স।

ব্যাংকটি এক নোটে জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে তামার দাম হতে পারে যথাক্রমে টনপ্রতি ৯ হাজার ৩৩০ ও ৯ হাজার ১৫০ ডলার। এর আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৮ হাজার ৬২০ ও ৮ হাজার ৩৭০ ডলার।

গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র উচ্চমাত্রায় তামা আমদানি বাড়ানোর কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন্যান্য দেশে মজুদ কমে আসবে। ফলে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) বর্তমান ও ভবিষ্যতের দামের ব্যবধান সংকুচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে দাম কমে যেতে পারে বলে ধরে নিয়ে যেসব ব্যবসায়ী আগাম বিক্রি (শর্ট সেল) বিক্রি বাড়াতে চান তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নতুন করে কেউ সহজে শর্ট সেল করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

ব্যাংকটি আরো জানায়, ২০২৫ সালে চীনে তামার চাহিদা স্থিতিশীল থাকতে পারে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে ঊর্ধ্বমুখী রফতানি। যদিও রফতানি দুর্বল হতে শুরু করেছে। ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চাহিদা শক্তিশালী থাকবে, তবে তৃতীয় প্রান্তিকে তা আবার নিম্নমুখী হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বৈশ্বিক তামার চাহিদায় উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখিতা দেখা দেবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩২ ধারায় সম্ভাব্য শুল্ক আরোপ নিয়ে আসন্ন সিদ্ধান্ত। এ ২৩২ ধারা ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তামা আমদানির ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন, যেন দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন পুনর্গঠন করা যায়।

যদি এ সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের শেষভাগে গড়ায় তাহলে বৈশ্বিক তামা বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এছাড়া বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজার, বিশেষত চীনে, সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক তামার বাজার ২০২৬ সালে ঘাটতির মুখে পড়তে পারে। এর পেছনে ভূমিকা রাখবে বিদ্যুৎ খাতগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ও খনি থেকে উত্তোলন কমে যাওয়া।

ব্যাংকটি আরো জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তামার দাম হতে পারে টনপ্রতি ৯ হাজার ডলার। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে টনে ১০ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে।

আরও